Home » একজন অভ্র এবং জনৈক পিতা by Abul Fatah
একজন অভ্র এবং জনৈক পিতা Abul Fatah

একজন অভ্র এবং জনৈক পিতা

Abul Fatah

Published
ISBN :
Hardcover
96 pages
Enter the sum

 About the Book 

বাসাটার সামনে এসেই থমকে গেলাম। কীভাবে ঢোকা উচিৎ বুঝতে পারছি না। আমার পায়ে বারমিজ সেনডেল। কালো রঙের। বহুল বযবহারে চযাপটা হয়ে গেছে। তলার খাঁজকাটা অংশটুকু পীচ ঢালা পথের অতযাচারে টাইলস করা মেঝের মতই মসৃণ। বৃষটির দিনে হাঁটতে গেলে সীমানতের “নো মযানস লযানড“Moreবাসাটার সামনে এসেই থমকে গেলাম। কীভাবে ঢোকা উচিৎ বুঝতে পারছি না। আমার পায়ে বার্মিজ সেন্ডেল। কালো রঙের। বহুল ব্যবহারে চ্যাপ্টা হয়ে গেছে। তলার খাঁজকাটা অংশটুকু পীচ ঢালা পথের অত্যাচারে টাইলস করা মেঝের মতই মসৃণ। বৃষ্টির দিনে হাঁটতে গেলে সীমান্তের “নো ম্যানস ল্যান্ড“-এ হাঁটার মত অনুভূতি চলে আসে। বুড়ো আঙ্গুলে দেহের সব ভার চাপিয়ে দিয়ে পা টিপে টিপে এগোতে হয়। যেন এক্ষুণি বিএসএফ গুলী শুরু করবে!আমি জহির সাহেবের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে দেখতে পাচ্ছি বাড়িতে ঢোকার দরজার পাশেই একটা জুতোর র‍্যাক রাখা। আমি পড়ে গেলাম ঝামেলায়। আমার সেন্ডেল ওই র‍্যাকে শোভা পায় কিনা বুঝতে পারছি না। না পাবারই কথা। এইমুহুর্তে র‍্যাকে যে জুতোগুলো দেখতে পাচ্ছি, আমার তো ধারণা এগুলো বেঁচেই আমার বার্মিজ সেন্ডেলের একটা ফ্যাক্টরি দেয়া সম্ভব! এদিকে এত ধনী মানুষের বাড়ির বাইরে সেন্ডেল রেখে গেলেও খারাপ দেখায়। শিষ্টাচার বহির্ভূত। তাছাড়া আমার পর কেউ এসে ছাল ওঠা কুকুরের মত সেন্ডেল জোড়া দেখে ভেবে বসতে পারে এগুলো বোধহয় জহির সাহেবই পায়ে দেন! ভদ্রলোক আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন, তাকে এভাবে অপমান করাটা ঠিক হবে না বোধহয়।র‍্যাকে সেন্ডেল রাখার ক্ষেত্রে আরেকটা ছোট্ট সমস্যাও আছে। বারান্দার মেঝেতে মসৃণ টাইলস লাগানো। অনেক দামী টাইলস, দেখেই বোঝা যায়। এমন সুন্দর টাইলস মাড়িয়ে জুতো রাখার র‍্যাকের কাছে যেতেও মায়া লাগে। জুতোর র‍্যাকটা বাইরে রাখা উচিৎ ছিল। তবে আমার বুদ্ধিতে তো আর বড়লোকরা চলেন না। তারা চলেন তাদের বুদ্ধিতে। আরেকটা কাজ অবশ্য করা যায়, এবং আমি সেটাই করলাম। সেন্ডেল পায়ে দিয়েই সোজা ড্রয়িংরুমে ঢুকে পড়লাম।কেন করলাম কাজটা?দেখবেন, মাঝে মধ্যে অদ্ভুত অদ্ভুত সব কাজ করতে ইচ্ছে করে। উদাহরণ দেয়া যাক। ধরুন, আপনি দশতলা বিল্ডিং এর ছাদে দাঁড়িয়ে আছেন। একেবারে রেলিং ঘেষে। একবার নীচে উঁকি দিন। কি মনে হচ্ছে না, লাফ দিতে পারলে মন্দ হয় না?!কিংবা ধরা যাক, আপনি বাসে বসে আছেন। আপনার সামনের সিটে যে বসেছে তার মাথায় একটা চকচকে টাক। বিশাল। সিটের উপর দিয়ে শুধু টাকটাই দেখা যাচ্ছে। জানালার কাচে রোদ প্রতিফলিত হয়ে সেই টাকে পড়ছে, সেখান থেকে আবার প্রতিফলিত হয়ে আপনার মুখ আলোকিত হচ্ছে! কি ইচ্ছে করবে না, টাকে মোলায়েম করে হাত বুলিয়ে দিতে?!কিন্তু এরকম করা হয় না কখনও। কারণ এই কাজগুলো করতে প্রচন্ড সাহসের দরকার হয়। সাহসও না ঠিক, দুঃসাহস। এরকম দুঃসাহস সাধারণত মানুষকে দেয়া হয় না। তাহলে পুরো পৃথিবীটা উলট-পালট হয়ে যেত। তৈরি হত প্রচন্ড বিশৃঙ্খলা।যেমন ধরা যাক, আপনি আর আপনার স্ত্রী রাতের বেলা ছাদে হাঁটাহাঁটি করছেন। আকাশে গোল একটা চাঁদ। চাঁদের আশেপাশে উজ্জ্বল চন্দ্রবলয়। মোটামুটি রোমান্টিক একটা পরিবেশ। আপনি চন্দ্রবলয়ের দিকে তাকিয়ে চন্দ্রগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। উচ্চস্বরে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করছেন। হঠাৎই লক্ষ্য করলেন আপনার স্ত্রীর কোনও সাড়াশব্দ নেই। খোঁজ নিতেই জানা গেল আপনার স্ত্রী ছাদ থেকে লাফ দিয়েছে। হয়ত চাঁদের অসহ্য সৌন্দর্য কিংবা আপনার কবিতা সহ্য করতে পারেনি!রাস্তায় বেরোলেই দেখা যেত অদ্ভুত সব ঘটনা। কেউ কারও টাকে তবলা বাজাচ্ছে তো আবার কেউ কারো পশ্চাৎদেশে লাথি কষাচ্ছে। অথবা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া মক্ষীরানী টাইপের কোনো মেয়েকে টুক করে চুমু খেয়ে বসল এক পাংকু ছোকরা। ইচ্ছে হয়েছে, খেয়েছে!তবে এমন কোনও ব্যাপার চালু থাকলে সবচাইতে বিপদে পড়ত এদেশের রাজনীতিবিদরা। রাস্তায় বের হলেই আমজনতার চড়-চাপড় খেয়ে নিশ্চিত হাসপাতালের পথ ধরতে হত। ভয়াবহ পরিস্থিতি!আমিও ঠিক তেমনি বারান্দায় দাঁড়িয়ে যখন সেন্ডেল বিষয়ক জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন হঠাৎ করেই মনে হল সেন্ডেল পায়ে ঢুকে পড়লে কেমন হয়? একাজেও যথেষ্ট দুঃসাহসের প্রয়োজন আছে, তবে দুঃসাহস দেখাবার একটা সুযোগ আছে বটে। এমন সুযোগ ভবিষ্যতে আসার সম্ভবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। যতদূর বুঝতে পারছি জহির সাহেব আমাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনও কাজে ডেকেছেন। আমার মত “অগুরুত্বপূর্ণ মানুষের ডাক যখন পড়ে তখন ধরে নিতে হয় কারণটা গুরুত্বপূর্ণ।